সিরাজগঞ্জে পরিবেশ বিপর্যয়ের শিকার বাস্তুহারা মানুষের কথা

0
সিরাজগঞ্জে পরিবেশ বিপর্যয়ের শিকার বাস্তুহারা মানুষের কথা

জহির রায়হান-সিরাজগঞ্জঃ আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি,বন্যা ও নদী ভাংগনের শিকার হয়ে সিরাজগঞ্জে বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। আর এই সকল বসতবাড়ি, জমি হারা মানুষ গুলোর ঠিকানা হচ্ছে বাধের দুই পাশ বা সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের পতিত জমি।

সিরাজগঞ্জ জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী প্রতিবছরই হাজার হাজার মানুষের কৃষি জমি কেড়ে নিচ্ছে , উজার করে দিচ্ছে শত বছরের পুর্ব পুরুষের ঘর। এ গুলো হারিয়ে নিঃস্ব রিক্ত হয়ে অসহায় ও অমানবিক জীবনের অনিশ্চিত পথে জীবন পাড়ি দিচ্ছে পরিবার গুলো।

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুরের উপজেলার শুভগাছা, তেকানী, মাইজবারী, মেঘাই, সদর উপজেলার খোকসাবাড়ি, কাওয়াকোলা, সয়দাবাদ বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর, খুকনী চৌহালী উপজেলার প্রায় সবকয়টি ইউনিয়ন, শাহজাদপুর উপজেলার গালা, রুপবাটি, কৈজুরী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ বিগত ২০ বছরে পুর্ব পুরুষের কৃষি জমি বসত বাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবন যাপন করছে।

উন্নত দেশগুলোর কলকারখানার কার্বনের কারনে গ্রীন হাউজ এফেক্টের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের মত নদী মাতৃক কৃষি নির্ভর দেশ গুলো সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে।

আর সিরাজগঞ্জের মত নদী কেন্দ্রিক জনপদের মানুষগুলো দারিদ্র সীমার নীচে চলে যাচ্ছে। এতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পরছে।

কাজিপুর উপজেলার শুভগাছার বৃদ্ধ আবুবকর সিদ্দিক জানান, ছোট বেলায় যমুনা নদী দেখতে আমরা বাড়ি থেকে হেটে কয়েক মাইল যেতাম। সেই নদী আমার পৈত্রিক বাড়ি ঘর তিন বার ভেঙ্গেছে, এখন অতীত স্মৃতি হাতরানো ছাড়া কিছুই নেই।

ছেলে মেয়ে গুলোকে লেখা পড়া বেশী দূর করাতে পারিনি । তারা সবাই এখন গার্মেন্টসে চাকুরী করছে।

সিরাজগঞ্জ শহরের চর মালশাপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা জমেলা বেওয়া এখন খাস জমিতে থাকেন। আগে বাড়ি কোথায় ছিল বলতেই চোখের জলে উত্তর দিয়ে দেখালেন নদীর ঐখানে অর্থাৎ নদীর মাঝখানে।

তিনি আরো বলেন , চার বিঘা জমির উপর বাড়ি ছিল। কয়েক খাদা কৃষি জমি আর শখানেক বিভিন্ন ফলের বড় বড় গাছ ছিলো। কয়েক বছরের মাঝেই সকল কিছু নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

বর্তমান সরকারের আমলে সিরাজগঞ্জ সদর আসনের এমপি অধ্যাপক ডাঃ হাবীবে মিল্লাত মুন্নার একান্ত প্রচেষ্টায় যমুনা নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করানো হয় এবং নদীর গতিমুখ ঠিক করা হয়। ক্রসবার নির্মানের মাধ্যমে কয়েক হাজার বিঘা জমি নদী হতে রক্ষা করা হয়।

সচেতন মহল মনে করেন- উন্নত দেশগুলোর উচিত কার্বন নিঃসরন কমিয়ে আনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের স্বীকার দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা।

Facebook Comments

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here